য়ান্নর ভাষা আন্দোলন করে শহীদ হয়েছিলেন বরকত, জব্বার, রফিক ও সালামসহ আরও অনেকে। আর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর দ্বিতীয় দফায় আরেকটি ভাষা আন্দোলন করেছিলেন কানাডাপ্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম। সে কারণেই ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এরপর বাকিটা ইতিহাসের বিনির্মাণ। শুধু কানাডা নয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের পর নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশি দূতাবাস সেই দেশের রাজধানী দ্য হেগের জাউদার পার্কে শহীদ মিনারের জন্য যে জায়গাটি পেয়েছে সেখানে সুন্দর একটি শহীদ মিনার গড়ে উঠবে, নেদারল্যান্ডসের বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে সেটা—এমনটাই আমাদের আশা জাগানিয়া মন দাবি করতে পারে।
কিন্তু এই খবরে এত উদ্বেলিত হওয়ার কি আছে? এমন প্রশ্ন হতেই পারে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে কনসার্ট ফর বাংলাদেশ নামে যে সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল সেটা আমাদের বাঙালি জাতির ওপর হানাদার পাকিস্তানি আর্মির নির্মম অত্যাচার প্রতিরোধে সহায়ক হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছিল। মাত্র কয়েক দিন আগে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক অগ্রজ সাংবাদিক আনিসুল হক তার অরণ্য রোদন কলামে সেটা উল্লেখও করেছেন। আজ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে
রথমত, এটি একটি সাফল্য! একটি সাফল্যকে পরবর্তী সাফল্যের সোপান বলা হয়। এটি আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষুদ্র প্রয়াসের একটি অনুকরণীয় সাফল্য। এতে নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশি দূতাবাসই প্রথম নয়, তবে তারা কানাডার এই প্রজন্মের ভাষাসৈনিক, যাদের কারণে ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল; তাদের সেই মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত করেছেন। নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশি দূতাবাসের সকল সদস্যকে এ জন্যে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন। দ্বিতীয়ত, এই শহীদ মিনারই বিদেশের মাটিতে আমাদের বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব করবে, হয়ে উঠবে বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র, একটি প্রতীক। বিভিন্ন দেশের মাটিতে ঠিক যেমনটা করে থাকে চীনের কুনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, ফ্রান্সের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, জার্মান গেটে ইনস্টিটিউট! আর তৃতীয়ত, নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশি দূতাবাসের এই সাফল্য ধারা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে অবস্থিত আমাদের দূতাবাসকে উৎসাহিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত আমাদের রাষ্ট্রদূত মহোদয় এবং প্রবাসী বাঙালিরা এই কারণে উৎসাহিত হবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন