পৌষের পরিচয়ে একটি ইংরেজি পুস্তকের সমালোচনা করতে গিয়ে শ্রীযুক্ত দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় সম্পূর্ণ অবান্তর ও অহৈতুকভাবে আমার ওপর তিন পৃষ্ঠাব্যাপী ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও রূঢ় বাক্য বর্ষণ করেছেন, তাতে আমি বিস্মিত ও দুঃখিত হয়েছি। তাঁর সঙ্গে আমার মতভেদ আছে, সুতরাং তিনি আমার যুক্তির বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তের খণ্ডন করে নিজ মত প্রতিষ্ঠিত করবেন, এটা সবৈর্ব বাঞ্ছনীয়! বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির এই রাজপথ ত্যাগ করে তিনি ব্যক্তিগত গালিগালাজের পূতিগন্ধময় নর্দমায় ঝাঁপ দিয়ে পড়লেন কেন? শ্রীযুক্ত নীরেন্দ্রনাথ রায়ের লেখা এই দিক দিয়ে দৃষ্টান্তস্থল ছিল। দুঃখের বিষয় সে লেখার চারিত্রকে দেবীবাবু অনুকরণযোগ্য বিবেচনা করলেন না।
দেবীবাবু নিজেকে মার্ক্সবাদী বলে থাকেন, আমিও মার্ক্সীয় দর্শনের কাছে অনেকাংশে ঋণী এবং মার্ক্সের আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ একান্তঃকরণ। তাঁর, আমার এবং আমাদের মতন আরও অনেকের মতবৈচিত্র্য ও পরস্পর সংশোধনের মধ্য দিয়ে মার্ক্সীয় দর্শনের অফুরন্ত বিকাশ তার ডায়ালেক্টিক্ গতির আরও একটি পথ খুঁজে পাবে—এইটেই তো স্বাভাবিক ও কাম্য। সে গতি কি তিনি রুদ্ধ করে দেবেন কাদার মধ্যে নেমে? বিজ্ঞানকে যে এগিয়ে চলতেই হবে এবং এযাবৎ তার এগিয়ে চলা বহু বিভিন্ন মতের উত্থান-পতন, বিচার-বিশ্লেষণ, খণ্ডন ও সংশোধনের ভেতর দিয়েই সম্ভব হয়েছে। মার্ক্সীয় দর্শন তো শ্রুতি নয়, স্মৃতি নয়, বেদ-বাইবেল-কোরআন নয়, তা একটি বৈজ্ঞানিক
রথমত, এটি একটি সাফল্য! একটি সাফল্যকে পরবর্তী সাফল্যের সোপান বলা হয়। এটি আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষুদ্র প্রয়াসের একটি অনুকরণীয় সাফল্য। এতে নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশি দূতাবাসই প্রথম নয়, তবে তারা কানাডার এই প্রজন্মের ভাষাসৈনিক, যাদের কারণে ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল; তাদের সেই মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত করেছেন। নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশি দূতাবাসের সকল সদস্যকে এ জন্যে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন। দ্বিতীয়ত, এই শহীদ মিনারই বিদেশের মাটিতে আমাদের বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব করবে, হয়ে উঠবে বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র, একটি প্রতীক। বিভিন্ন দেশের মাটিতে ঠিক যেমনটা করে থাকে চীনের কুনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, ফ্রান্সের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, জার্মান গেটে ইনস্টিটিউট! আর তৃতীয়ত, নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশি দূতাবাসের এই সাফল্য ধারা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে অবস্থিত আমাদের দূতাবাসকে উৎসাহিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত আমাদের রাষ্ট্রদূত মহোদয় এবং প্রবাসী বাঙালিরা এই কারণে উৎসাহিত হবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন